সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৩:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের জনতার সাথে ইফতার করলেন চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী এমন ভরা বস্তা জম্মেও পাইনি ব্যাটা ১৫ লাখ পরিবার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পাচ্ছে ‘নগদ’-এ নেতা আসছেন কুষ্টিয়ায় হোগলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরীর উদ্দ্যোগে অসহায় মানুষের মাঝে নগদ অর্থ ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ অসহায় লোকসঙ্গীত শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়ার পাশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি কুষ্টিয়ায় অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে জেলা ইউনাইটেড অনলাইন প্রেসক্লাবের মানববন্ধন ঝিকরগাছায় কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে কৃষকের অভাবনীয় সাফল্য -উপপরিচালক মনিরামপুরে এসএম ইয়াকুব আলীর পক্ষে কম্বল বিতরণ শোক সংবাদ, শোক সংবাদ
ঘোষণা :
নিউজ আর এস এ আপনাকে স্বাগতম  

ঝিকরগাছার গদখালি ফুলের রাজধানীতে করোনাকালীন সময়ে হচ্ছে না ফুল বিক্রি : চলতি বছরে থাকছে না কোন টার্গেট

Reporter Name / ৬০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২১, ১:১২ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

যশোরের ঝিকরগাছায় ফুলের রাজধানীতে করোনাকালীন সময়ে হচ্ছে না ফুল বিক্রি। চাষিদের ফুল উৎপাদন হলেই সেই উৎপাদিত ফুল হচ্ছে নষ্ট। ক্রেতার আনাগোনা পাওয়া যাচ্ছে না ফুল মার্কেটে, ক্রমাগতই উৎপাদন বৃদ্ধি হলেও চাহিদার জন্য গ্রাহকের উপস্থিতি অতিসামান্য। এবারের আসন্ন বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস ও স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে ফুল চাষিরা মহাব্যস্ত সময় পার করলেও চলতি বছরে তাদের মধ্যে থাকছে না কোন প্রকার টার্গেট। এখন ক্ষেত থেকে সময়মত পর্যাপ্ত ফুল পেতে গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা। তবে মৌসুমে এ চার দিবসে গতবছর ফুলসমিতির লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭০-৮০ কোটি টাকা। তবে বিক্রি হয়ে ছিলো প্রায় ৭০কোটি টাকা। কিন্তু চলতি বছরের মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরোয়াপরিবেশের অনুষ্ঠান ও বৈদেশীক দেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় চলতি বছরে চাষিদের পক্ষে কোনপ্রকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম।
তবুও বসে নেই ফুলচাষিরা, দিন-রাত ফুল বাগানের পরিচর্যা করে চলেছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে গদখালির চাষিরা বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা ও স্বাধীনতা দিবসের ফুল বাজারে সরবরাহের আশায়! ফুলের রাজ্য গদখালি ও পানিসার ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠ জুড়ে শুধু, ফুল আর ফুল। সেখানে বিভিন্ন ধরণের জারবেরা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা হাতছানি দিয়ে ডাকছে, মায়া ভরা প্রকৃতিকে। প্রায় প্রতিটা ক্ষেতেই চাষিরা ফুলের গাছ পরিচর্যায় মগ্ন হয়ে সময় পার করছে। এখানে চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা ও স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে তাদের ব্যস্ততা বৃদ্ধি পায়। তারা সব সময় বসে বসে সময় পার করে কিন্তু বছরের প্রথমে তিন-চারটি উৎসবকে ঘিরে এই এলাকায় সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয়।
ফুল চাষি নজরুল ইসলাম খোকন ও আলমগীর হোসেন জানান, প্রায় চার বিঘা জমিতে জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাস ও রজনীগন্ধা ফুল রয়েছে। উৎসবকে সামনে রেখে ফুল সরবরাহ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ফুলের ভরা মৌসুমে আমাদের নাওয়া-খাওয়া থাকে না। তবে তুলনামূলক ফুলের চাহিদা ও দাম এখন একটু কম। হচ্ছে না ফুল বিক্রি, ফলে আমাদের উৎপাদিত ফুল হচ্ছে নষ্ট। ১ বিঘা গোলাপ ও ২ বিঘা গ্লাডিওলাস ফুলের আবাদ করে বর্তমানে কোন প্রকার ফুল বিক্রি হচ্ছে না। পহেলা বৈশাখে ফুলের চাহিদা হতে পারে বলে মনে করে ফুল উৎপান করছি। তারা আরো বলেন, এক বিঘা গোলাপ রোপনে প্রায় ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। ৪ হাজার চারার দাম প্রায় ৬০-৭০হাজার টাকা। আর রোপনসহ অন্যান্য খরচ আরও ৬০ হাজার টাকা। এছাড়াও পরিচর্যার খরচ রয়েছে বাড়তি। একবার রোপনে ৪-৫ বছর পর্যন্ত গোলাপ ফুল পাওয়া যায়।
স্থানীয় পাইকারী ব্যবসায়ী মাসুদ রানা জানান, ভালবাসা দিবসে ফুল বিক্রি বেশি হয়। বাজারে জারবেরা, গোলাপ, রজনীগন্ধ ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। কৃষকরাও দাম ভালো পায়। প্রতি বছর যশোরে ফুলের আবাদ বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবেনা বলে আমরা আশাবাদি। তবে করোনাকালীন সময়ে বর্তমানে আমাদের পুঁজিবাচানো দায় হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার এ অঞ্চলের প্রায় ৬ হাজার কৃষক আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ পরিচালনা করে। গতবছর বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও স্বাধিনতা দিবসে গদখালী এলাকার কৃষকরা ৭০-৮০ কোটি টাকার ফুল সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও চাষিরা ৭০কোটি টাকার ফুল বিক্রি করেন। তবে বর্তমান করোনাকালীন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরোয়াপরিবেশের অনুষ্ঠান ও বৈদেশীক দেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় চলতে বছরে চাষিদের পক্ষ হতে কোনপ্রকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারচ্ছে না। তবে ফুলচাষীরা এবারও ভাল ফুল উৎপাদন করেছে। আমি আশাকরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরোয়াপরিবেশের অনুষ্ঠান ও বৈদেশীক দেশের সাথে যোগাযোগ চালু হলে চাষিরা তাদের ফুলের অনেক ভালো মূল্য পাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত রহমান জানান, এই অঞ্চলের ফুল চাষীদের জন্য সরকার ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে ফুলচাষিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফুল চাষিদের ব্যাংক ঋণ সহজ করতে ও ফুল সহজে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এছাড়াও ইতিমধ্যে তাদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে তাদেরকে সল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

কুষ্টিয়ায় আরো এক পান্না মাষ্টারের সন্ধান..! লম্পট রাজুর বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় ছাত্রীকে হুমকি, নিরাপত্তাহীনতা ও বিচার চেয়ে থানায় এজাহার দায়ের সোহেল রানা কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় এক লম্পটের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও কু-প্রস্তাবের অভিযোগ উঠেছে । ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে ওই লম্পট। জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গোয়ালগ্রাম মধুগাড়ী এলাকার আরজ উল্লাহ’র ছেলে রাজু আহাম্মেদ যার বর্তমান ঠিকানা কুষ্টিয়া শহরের কাটাইখানা মোড়ের একটি বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটের কোর্স সমন্বয়কারী। অত্র ইনস্টিটিউটের ২য় বর্ষের এক ছাত্রীর সাথে পরিচয় হয় তার। পরিচয়ের পর একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ভাবে কু-প্রস্তাব দেয় লম্পট রাজু। কিন্তু ওই ছাত্রী তার কু-প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় রাজু ওই ছাত্রীর ওড়না ধরে টানাটানি, শরীরে বিভিন্ন স্থানে হাত দেওয়া সহ বিভিন্ন ভাবে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিল রাজু। বিষয়টি কাউকে জানালে ওই ছাত্রীকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় ওই লম্পট। ভীত ওই ছাত্রী জানায়, লম্পট রাজু জোরপূর্বক ভাবে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এব্যাপারে ওই ছাত্রী নিরাপত্তাহীনতা ও বিচারের দাবী করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।একাধিক সূত্র জানায়, এরকম আরো কয়েকজন শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করে লম্পট রাজু। তার ফাঁদে পড়ে অনেকেই সর্বঃস্ব হারিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ওই ছাত্রীর এজাহারের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি গোলাম মোস্তফার নির্দেশে ওসি তদন্ত অভিযোগকারী ওই ছাত্রীসহ ভুক্তভোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা বাদী ও ভুক্তভোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সত্যতা পায়। তিনি জানান, নারী নির্যাতনকারী অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিদ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক ক্লিকে বিভাগের খবর