শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০২:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ঝিকরগাছায় কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে কৃষকের অভাবনীয় সাফল্য -উপপরিচালক মনিরামপুরে এসএম ইয়াকুব আলীর পক্ষে কম্বল বিতরণ শোক সংবাদ, শোক সংবাদ শোক সংবাদ, শোক সংবাদ সকল মান-অভিমান ভূলে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে – জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-মিলন বাসায় ফিরেছেন প্রিয় নেতা ভাসানচর থানা উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুষ্টিয়া নাগরিক কমিটি গঠন: সভাপতি ডাঃ মুসতানজিদ। সাধা: সম্পাদক ড. সেলিম তোহা। যুগ্ম সাধা: সম্পাদক সামসুল ওয়াসে সন্ত্রাসী মোস্তাকের টার্গেট নিরীহ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা। ঝিকরগাছার গদখালি ফুলের রাজধানীতে করোনাকালীন সময়ে হচ্ছে না ফুল বিক্রি : চলতি বছরে থাকছে না কোন টার্গেট
ঘোষণা :
নিউজ আর এস এ আপনাকে স্বাগতম  

কুুুষ্টিয়ায় ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার ও প্রতারক চক্র দিয়ে চলছে ড্রিম হাউজ নামক বিল্ডিং ডিজাইন ফার্ম

Reporter Name / ৬৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২১, ১:৩৮ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।।

কুষ্টিয়া শহরে একটি প্রতারক চক্র ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে পরিচালনা করছে ড্রিম হাউজ ডিজাইন নামক একটি বিল্ডিং ডিজাইন ফার্ম। জানা যায়, কুষ্টিয়ার শহরের এনএসরোডস্থ সুকান্ত বিপনী কেন্দ্র মার্কেটের ২য় তলায় রয়েছে ড্রিম হাউজ ডিজাইন নামক একটি বিল্ডিং ডিজাইন ফার্ম এর অফিস। যারা নিজেদের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ করতে চান তাদের আকর্ষিত করার জন্য অফিসের সামনে বিশাল বিলবোর্ড, কুষ্টিয়ার শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ঝকমকা ব্যানার-ফেস্টুন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাহারি বাহারি বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে এই চক্রটি।
এই বিজ্ঞাপনে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুল জব্বার, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ তৌফিক এলাহী ও আর্কিটেক্ট শুভাশীষ সেন তন্ময় এর নাম ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞাপণে ব্যবহৃারিত ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে কথা হলে তারা জানান, ড্রিম ডিজাইন হাউজ নামক বিল্ডিং ডিজাইন ফার্ম এর সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। ইঞ্জিনিয়ার মোঃ তৌফিক এলাহী বলেন, তারা আমার নাম ব্যবহার করতো। আমি যখনই বুঝতে পেরেছি এটি একটি প্রতারক চক্র, আমি তখন সরে এসেছি। বর্তমানে আমার সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। এখনো আমার নাম কেন ব্যবহার করছে তা আমার বোধগম্য নয়, তবে এটি যথারীতি অন্যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ড্রিম হাউজ ডিজাইনের পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমান টোটন। তিনি নিজেকে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক এর প্রাক্তণ ছাত্র ও নাটোর ইউনিভার্সিটিতে অধ্যায়নরত দাবী করলেও তিনি কুষ্টিয়া ইন্সটিটিউট অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি নামক একটি প্রাইভেট ইন্সটিটিউট থেকে ডিপ্লোমা পাশকৃত। এদিকে কোন ডিপ্লোমা পাশধারী ব্যক্তি নিজের নামের পূর্বে ইঞ্জিনিয়ার লিখতে পারেন না। কিন্তু হাবিবুর রহমান টোটন নিজের নামের পূর্বে ইঞ্জিনিয়ার লিখে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, ভিজিটিং কার্ড ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে জাহির করেন। যা আইনগত ভাবে অপরাধ ও শাস্তিযোগ্য। এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারস্ ইন্সটিটিউট অফ বাংলাদেশ (আইবি)’র কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর উপকেন্দ্রের সাবেক সম্পাদক প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, ডিপ্লোমাপাশধারী কোন ব্যক্তি নিজের নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার লিখতে পারে না। যদি লিখে থাকে তাহলে এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমন প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কুষ্টিয়া ওজোপাডিকো লিঃ এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব দেব নাথ এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ডিপ্লোমা পাশধারীদের নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার লেখার কোন সুযোগ নেই। আইবি এসব প্রতারক ইঞ্জিনিয়ারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এদিকে একটি স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে প্রথম পর্যায়ে মাটি পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। ড্রিম হাউজ বিল্ডিং এর পরিচালক হাবিবুর রহমান টোটন এর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাটি পরীক্ষা করার জন্য ঢাকায় আমাদের নিজস্ব অফিস রয়েছে। আমরা কুষ্টিয়া থেকে মাটির নমুনা নিয়ে ঢাকায় পাঠায়। কিন্তু হাবিবুর রহমান টোটন ঢাকায় যে অফিসের ঠিকানা দেন সেই অফিসের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এদিকে তার ড্রিম হাউজ বিল্ডিং ফার্মে মাটি পরীক্ষার করার জন্য সবুজ নামের একজন দায়িত্বে রয়েছে। যিনি কম্পিউটারে ডিপ্লোমা করলেও নিজেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার দাবী করেন। সম্পর্কে সে টোটন এর খালাতো ভাই বলে জানা গেছে। টোটন বলেন, আমার অফিসে আমার আন্ডারে পাঁচজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার চাকুরী করেন। তার কাছে এই ৫ জন ইঞ্জিনিয়ারের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে পারেননি।
কুষ্টিয়া পৌর অঞ্চলের মধ্যে কোন স্থাপনার প্লান পাশ করতে হলে কোন ডিজাইন ফার্ম অথবা ব্যক্তিগত মালিকানায় লাইসেন্সধারী হতে হবে। কিন্তু ড্রিম হাউজ ডিজাইনের নামে কুষ্টিয়া পৌরসভায় কোন নকশার লাইসেন্স না থাকলেও মোঃ তৌফিকুল ইসলাম নামে একটি ব্যক্তিগত পৌর নকশার লাইসেন্সে ড্রিম হাউজ ডিজাইনের নকশাকৃত প্লানগুলো জমা হয়। এই বিষয়ে তৌফিকুল ইসলামকে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ড্রিম হাউজ ডিজাইনের ব্যবসায়িক পার্টনার। এদিকে আইবি’র নিয়মানুযায়ী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা ৪তলা পর্যন্ত বিল্ডিং ডিজাইন করতে পারেন। কিন্তু পৌরসভায় জমাকৃত ডিজাইন সিটে দেখা যায়, মোঃ তৌফিকুল ইসলাম এর লাইসেন্সে ৪তলার উপরে যে সব ডিজাইন করা হয়েছে সেখানে মোঃ রায়হান শেখ নামক একজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারের নাম ও আইবি’র মেম্বারশীপ নাম্বার ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু আইবি’র ওয়েব সাইটে ঢুকে এই নামের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তৌফিকুল ইসলামের নিজ নামে নিবন্ধিত পৌর নকশার লাইসেন্সটি ড্রিম হাউজ ডিজাইন ফার্মকে প্রতারণা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। সেই কারণে তৌফিকুল ইসলামের লাইসেন্স বাতিলের জন্য একাধিক প্রকৌশলী দাবী জানিয়েছেন।
এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতনমহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

কুষ্টিয়ায় আরো এক পান্না মাষ্টারের সন্ধান..! লম্পট রাজুর বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় ছাত্রীকে হুমকি, নিরাপত্তাহীনতা ও বিচার চেয়ে থানায় এজাহার দায়ের সোহেল রানা কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় এক লম্পটের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও কু-প্রস্তাবের অভিযোগ উঠেছে । ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে ওই লম্পট। জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গোয়ালগ্রাম মধুগাড়ী এলাকার আরজ উল্লাহ’র ছেলে রাজু আহাম্মেদ যার বর্তমান ঠিকানা কুষ্টিয়া শহরের কাটাইখানা মোড়ের একটি বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটের কোর্স সমন্বয়কারী। অত্র ইনস্টিটিউটের ২য় বর্ষের এক ছাত্রীর সাথে পরিচয় হয় তার। পরিচয়ের পর একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ভাবে কু-প্রস্তাব দেয় লম্পট রাজু। কিন্তু ওই ছাত্রী তার কু-প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় রাজু ওই ছাত্রীর ওড়না ধরে টানাটানি, শরীরে বিভিন্ন স্থানে হাত দেওয়া সহ বিভিন্ন ভাবে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিল রাজু। বিষয়টি কাউকে জানালে ওই ছাত্রীকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় ওই লম্পট। ভীত ওই ছাত্রী জানায়, লম্পট রাজু জোরপূর্বক ভাবে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এব্যাপারে ওই ছাত্রী নিরাপত্তাহীনতা ও বিচারের দাবী করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।একাধিক সূত্র জানায়, এরকম আরো কয়েকজন শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করে লম্পট রাজু। তার ফাঁদে পড়ে অনেকেই সর্বঃস্ব হারিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ওই ছাত্রীর এজাহারের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি গোলাম মোস্তফার নির্দেশে ওসি তদন্ত অভিযোগকারী ওই ছাত্রীসহ ভুক্তভোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা বাদী ও ভুক্তভোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সত্যতা পায়। তিনি জানান, নারী নির্যাতনকারী অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিদ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক ক্লিকে বিভাগের খবর