শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৩:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ঝিকরগাছায় কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে কৃষকের অভাবনীয় সাফল্য -উপপরিচালক মনিরামপুরে এসএম ইয়াকুব আলীর পক্ষে কম্বল বিতরণ শোক সংবাদ, শোক সংবাদ শোক সংবাদ, শোক সংবাদ সকল মান-অভিমান ভূলে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে – জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি-মিলন বাসায় ফিরেছেন প্রিয় নেতা ভাসানচর থানা উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুষ্টিয়া নাগরিক কমিটি গঠন: সভাপতি ডাঃ মুসতানজিদ। সাধা: সম্পাদক ড. সেলিম তোহা। যুগ্ম সাধা: সম্পাদক সামসুল ওয়াসে সন্ত্রাসী মোস্তাকের টার্গেট নিরীহ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা। ঝিকরগাছার গদখালি ফুলের রাজধানীতে করোনাকালীন সময়ে হচ্ছে না ফুল বিক্রি : চলতি বছরে থাকছে না কোন টার্গেট
ঘোষণা :
নিউজ আর এস এ আপনাকে স্বাগতম  

রাজাপুরে শীত মৌসুমে অনেক গাছি’র জীবিকা খেজুর গাছের রসেই, রস প্রায় বিলুপ্তির পথে!

Reporter Name / ৭৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০, ৮:১০ পূর্বাহ্ন

 

ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ মৃদু মৃদু ঠান্ডা হাওয়ায় প্রচন্ড শীতের রাত্রি শেষে শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় সূর্য মামার আলোক রশ্মির রাজাপুরে শীতের আগামনী বার্তা নিয়ে কাপছে প্রকৃতি ঠিক এমন সময়ে এসেও পাওয়া যাচ্ছে না খেজুর রস।তবে সময়ের বিবর্তনে এ উপজেলা থেকে খেজুর গাছ এখন প্রায় বিলুপ্তি।

হিম হিম শীত শীত,
শীত বুড়ি এলোরে,
কনকনে ঠান্ডায়
দম বুঝি গেলোরে।”

ঝালকাঠি রাজাপুর শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। শীতের ভরা মৌসুম তবে এরইমধ্যে শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেজুর গাছের রস সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছেন এ অঞ্চলের গাছিরা। শীত এলেই বেড়ে যায় রাজাপুর গাছিদের কর্ম ব্যস্ততা এবং গাছিদের মাঝে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য দা ও কোমরে দড়ি বেঁধে খেজুর গাছে উঠে নিপুণ হাতে গাছের ছাল তোলা ও নলি বসানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আবার কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে রস সংগ্রহের কাজ। উপজেলার প্রায় সব এলাকায় কমবেশি খেজুরের গাছ চোখে পড়লেও তুলনামুলক ভাবে শুক্তাগড় এলাকায় খেজুর গাছ বেশি চোখে দেখা যায়। ওই এলাকার খেজুর রস দিয়ে উপজেলায় চাহিদার ৩০ শতাংশ পূরণ হয়। সাধারণত বছরের ডিসেম্বর থেকে মার্চ এই ৪ মাস খেজুরগাছ থেকে মিষ্টি রস সংগ্রহ করা হয়। তবে কোন কোন সময় শীত আগে আসলে রস সংগ্রহও শুরু হয় আগেভাগে। এ রস অত্যন্ত সুস্বাদু ও মানবদেহের উপকারিতার কারণে যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে আছে। এখনও শীত এলেই শহর থেকে অনেক মানুষ ছুটে যান গ্রামে, খেজুর রস খেতে। রস ছাড়াও গাছিরা এ সময় রস জ্বালিয়ে পাতলা ঝোলা, দানা গুড় ও পাটালি তৈরি করেন। খেজুর রসের পাটালি গুড়ের পায়েশ না খেলে যেন শিতের আমেজটায় আসেনা। শীতে রস সংগ্রহের এই চার মাস এলাকার অনেক গাছিই খেজুরের রস সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এলাকার প্রবীন ব্যক্তিরা বলেন, কয়েক বছর আগেও এলাকার বিভিন্ন বাড়ির পাশে, ক্ষেতের আইলে ও রাস্তার দুই পাশ দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুরগাছ। এমনকি অনেক স্থানে একাধিক গাছ জন্ম নেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছিল দেশি খেজুর বাগান। কিন্তু বর্তমানে ইটের ভাটা ও বিদেশি কাঠ বাগান তৈরি, নতুন করে গাছ নালাগানো। সঠিকভাবে এর পরিচর্যা নাকরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ ইত্যাদি নানা কারণে উপজেলার খেজুরগাছ বিলীন হতে চলেছে। প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগের কারণে গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় খেজুরের রস তেমন একটা পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে এখন আর দেখা মেলে না শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে রসে বোঝাই হাঁড়ি কাঁধে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ফেরী করার সেই মনরোম দৃশ্য।রাজাপুরের উপজেলার সদর ইউনিয়ন,শুক্তগড়,মঠবারিয়া,গালুয়াসহ অনেক জায়গায় প্রচুর গাছ দেখতে পাওয়া যেত। যা এখন বিলুপ্তির পথে প্রায় । কিছু কিছু গাছ কাটা হলেও কোন একসময় এগুলো ও বিলুপ্ত হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে । তাই এখনই যথোপযুক্ত ব্যবস্থাগ্রহন আশু প্রয়োজন হয়ে পড়ছে। তা না হলে অতিশীঘ্রই খেজুরের রস বইয়ের পাতায় আর মানুষের মুখের গল্প হয়ে থাকবে। উপজেলার কৈবর্তখালী এলাকার হেল্লাল প্রতি বছর শীত মৌসুমে তিনি ২৫ থেকে ৩০ টি গাছ থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করেন। ওই এলাকার আব্দুল হাই,পান্নু, নুরহোসেন, জালালের মতো অনেকেই মৌসুমি ব্যবসা হিসাবে খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করেন এবং ওই রস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা জানান, বাপ-দাদারাও এক সময় খেজুরের রস সংগ্রহ করে বিক্রি করেছেন। এখন আমরা করছি। বাপ-দাদার পেশাটাকে এখনও ধরে রাখার চেষ্টা করছি। দিন পর দিন খেজুরের গাছ কমতে থাকায় শঙ্খিত তারা। এলাকার গাছিরা দাবি জানিয়েন সরকারী ভাবে নতুন করে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

কুষ্টিয়ায় আরো এক পান্না মাষ্টারের সন্ধান..! লম্পট রাজুর বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রতিবাদ করায় ছাত্রীকে হুমকি, নিরাপত্তাহীনতা ও বিচার চেয়ে থানায় এজাহার দায়ের সোহেল রানা কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় এক লম্পটের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও কু-প্রস্তাবের অভিযোগ উঠেছে । ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে ওই লম্পট। জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গোয়ালগ্রাম মধুগাড়ী এলাকার আরজ উল্লাহ’র ছেলে রাজু আহাম্মেদ যার বর্তমান ঠিকানা কুষ্টিয়া শহরের কাটাইখানা মোড়ের একটি বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটের কোর্স সমন্বয়কারী। অত্র ইনস্টিটিউটের ২য় বর্ষের এক ছাত্রীর সাথে পরিচয় হয় তার। পরিচয়ের পর একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ভাবে কু-প্রস্তাব দেয় লম্পট রাজু। কিন্তু ওই ছাত্রী তার কু-প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় রাজু ওই ছাত্রীর ওড়না ধরে টানাটানি, শরীরে বিভিন্ন স্থানে হাত দেওয়া সহ বিভিন্ন ভাবে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিল রাজু। বিষয়টি কাউকে জানালে ওই ছাত্রীকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় ওই লম্পট। ভীত ওই ছাত্রী জানায়, লম্পট রাজু জোরপূর্বক ভাবে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এব্যাপারে ওই ছাত্রী নিরাপত্তাহীনতা ও বিচারের দাবী করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।একাধিক সূত্র জানায়, এরকম আরো কয়েকজন শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করে লম্পট রাজু। তার ফাঁদে পড়ে অনেকেই সর্বঃস্ব হারিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ওই ছাত্রীর এজাহারের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি গোলাম মোস্তফার নির্দেশে ওসি তদন্ত অভিযোগকারী ওই ছাত্রীসহ ভুক্তভোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা বাদী ও ভুক্তভোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সত্যতা পায়। তিনি জানান, নারী নির্যাতনকারী অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিদ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক ক্লিকে বিভাগের খবর